প্রিয় সহযাত্রী, মো. নাহিদ পারভেজ, আপনি কি জানেন, ঝরঝরে ও সহজ ভাষার গদ্য আপনার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
শুভকামনা রইলো আপনার নতুন যাত্রাপথে। আশা করি, ‘কী কথা তাহার সাথে’ নিয়ে পাঠকের ভালোবাসায় আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন। এই যাত্রাপথ দূরগত হোক। শুভকামনা সবসময়।
বই, পুস্তক, প্রকাশনা জগতে বই-পুস্তক বা লেখালেখি নিয়ে আলাপচারিতা বা বক্তৃতার প্রসঙ্গ এলে, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আমার পছন্দের একজন মানুষ।
একটা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি বাংলাদেশের লেখকদের লেখালেখির ধরন ও ধারণা নিয়ে কথা বলছিলেন। তার কথাগুলো ছিল অনেকটা এরকম— বাংলাদেশের অসংখ্য লেখক মনে করেন, তিনি অসাধারণ লেখেন। অনেক গদ্যকারই লেখায় খুবই জটিল ও শক্ত শক্ত শব্দ ও বাক্যযোগে লিখে থাকেন। তারা মনে করেন, আমার লেখা যদি সকল সাধারণ মানুষ বুঝেই ফেলে তাহলে আমার ওস্তাদি আর রইলো কোথায়! ইচ্ছে করেই তাই তারা সহজ ভাষাকে প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে জটিল ও দুর্বোধ্য করে ফেলেন। ফলাফল হিসেবে যা ঘটে তা হলো, আমাদের পাঠক তাদের বই থেকে একটু দূরেই থাকেন। এই ওস্তাদ লেখকগণ আসলে পাঠকশূন্যতায় ভোগেন! পাঠকগণও অমন দুর্বোধ্য লেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
এরূপ ঘটনার উল্টোচিত্রটা আসলে কেমন? সহজ কথা সহজ করে বলা বা লেখাটা খুবই সহজ? মোটেই তা নয়। সহজ করে লেখাটা খুব কঠিন। তার চাইতেও কঠিন লেখালেখিতে পাঠকের মনোযোগকে ধরে রাখা। তার চাইতে বহু কঠিন পাঠককে সম্মোহনী শক্তিতে আটকে রাখা! পাঠককে মায়ার মতো জড়িয়ে রাখা… এই কঠিন কাজটাই খুব সহজে করে ফেলতে পারেন তিনি। ফেসবুকের কল্যাণে অল্প-সল্প লেখা পড়ে সামান্য ধারণা হলেও পুরো ধারণা পাল্টে গেছে তার পাণ্ডুলিপি পড়ে। একটা-দুইটা লাইনে কত চমৎকারভাবে একটা গল্প যেন বলে দিয়েছেন। নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, গদ্য নিয়ে নিয়মিত কাজ করলে তার কাছ থেকে আমরা আরও অসাধারণ গদ্যভাষা পাবো।