‘কী কথা তাহার সাথে’ গল্পগ্রন্থটি যেন স্মৃতি, দুজন মানুষের সম্পর্ক ও নীরবতার এক অন্তরঙ্গ কথোপকথন। এটি যেন লেখকের এক নিঃশব্দ আত্মকথন। লেখকের কলমে অতীত কখনো হয়ে উঠেছে মায়াময় এক স্মৃতিচিত্র, কখনো বা প্রশ্নবিদ্ধ এক সম্পর্কের ছায়াপথ। প্রতিটি গল্পেই তিনি খুঁজে ফেরেন জীবনের হারিয়ে যাওয়া বাঁকগুলো—যেখানে সম্পর্ক প্রশ্ন জাগায়, স্মৃতি আয়নায় মুখ দেখায়, আর নীরবতা নিঃশব্দে বলে ফেলে অজস্র না-বলা কথা।

গল্পগুলো গভীর হলেও জটিল নয়, বরং সহজেই পাঠককে ছুঁয়ে যায় গভীরে। কিছু গল্পে নীরবতা এমনভাবে কথা বলে উঠেছে, যা বহু শব্দেও বলা সম্ভব নয়। এটি শুধু গল্পের সংকলন নয়, বরং স্মৃতির মধ্যে দিয়ে আত্মার সঙ্গে এক নিবিড় আলাপন। এমন একটি বই, যেখানে পাঠক নিজেকেই নতুনভাবে খুঁজে পায়।

— হাসান তারেক চৌধুরী, বিজ্ঞান লেখক

প্রিয় সহযাত্রী, মো. নাহিদ পারভেজ, আপনি কি জানেন, ঝরঝরে ও সহজ ভাষার গদ্য আপনার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
শুভকামনা রইলো আপনার নতুন যাত্রাপথে। আশা করি, ‘কী কথা তাহার সাথে’ নিয়ে পাঠকের ভালোবাসায় আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন। এই যাত্রাপথ দূরগত হোক। শুভকামনা সবসময়।

বই, পুস্তক, প্রকাশনা জগতে বই-পুস্তক বা লেখালেখি নিয়ে আলাপচারিতা বা বক্তৃতার প্রসঙ্গ এলে, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আমার পছন্দের একজন মানুষ।

একটা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি বাংলাদেশের লেখকদের লেখালেখির ধরন ও ধারণা নিয়ে কথা বলছিলেন। তার কথাগুলো ছিল অনেকটা এরকম— বাংলাদেশের অসংখ্য লেখক মনে করেন, তিনি অসাধারণ লেখেন। অনেক গদ্যকারই লেখায় খুবই জটিল ও শক্ত শক্ত শব্দ ও বাক্যযোগে লিখে থাকেন। তারা মনে করেন, আমার লেখা যদি সকল সাধারণ মানুষ বুঝেই ফেলে তাহলে আমার ওস্তাদি আর রইলো কোথায়! ইচ্ছে করেই তাই তারা সহজ ভাষাকে প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে জটিল ও দুর্বোধ্য করে ফেলেন। ফলাফল হিসেবে যা ঘটে তা হলো, আমাদের পাঠক তাদের বই থেকে একটু দূরেই থাকেন। এই ওস্তাদ লেখকগণ আসলে পাঠকশূন্যতায় ভোগেন! পাঠকগণও অমন দুর্বোধ্য লেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

এরূপ ঘটনার উল্টোচিত্রটা আসলে কেমন? সহজ কথা সহজ করে বলা বা লেখাটা খুবই সহজ? মোটেই তা নয়। সহজ করে লেখাটা খুব কঠিন। তার চাইতেও কঠিন লেখালেখিতে পাঠকের মনোযোগকে ধরে রাখা। তার চাইতে বহু কঠিন পাঠককে সম্মোহনী শক্তিতে আটকে রাখা! পাঠককে মায়ার মতো জড়িয়ে রাখা… এই কঠিন কাজটাই খুব সহজে করে ফেলতে পারেন তিনি। ফেসবুকের কল্যাণে অল্প-সল্প লেখা পড়ে সামান্য ধারণা হলেও পুরো ধারণা পাল্টে গেছে তার পাণ্ডুলিপি পড়ে। একটা-দুইটা লাইনে কত চমৎকারভাবে একটা গল্প যেন বলে দিয়েছেন। নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, গদ্য নিয়ে নিয়মিত কাজ করলে তার কাছ থেকে আমরা আরও অসাধারণ গদ্যভাষা পাবো।

— খন্দকার সোহেল, প্রকাশক, ভাষাচিত্র

‘কী কথা তাহার সাথে’ গল্পগ্রন্থে লেখকের আত্মগত ভাবনার ভেতর দিয়ে জীবন, সম্পর্ক এবং বিচ্ছিন্নতার প্রতি এক গভীর মননশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি গল্পে লেখক অতীতের স্মৃতিকে কখনও দ্বিধায় দেখেছেন, কখনও ভালোবেসেছেন, আবার কখনও ব্যথায় ছুঁয়েছেন। তাঁর কলমে সম্পর্ক হয়ে উঠেছে প্রশ্নচিহ্ন, স্মৃতি হয়ে উঠেছে সময়ের আয়না, আবার নীরবতা—সম্ভবত সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বররূপে এই বইয়ে স্থান করে নিয়েছে কোনো কোনো গল্পে। ফলে পাঠক যদি লেখকের ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্নতাকে কখনো কোনো গল্পে উপভোগ করতে চায়- তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

— শাহাদৎ রুমন, লেখক ও গবেষক

সময়োপযোগী লেখা। ঠিক বলেছেন, হার মানা যাবে না। তুচ্ছ সাংসারিক ঝুট ঝামেলাকে প্রায়োরিটি দিয়ে আত্মঘাতী এটম বোম বানানো নেহায়েত নির্বুদ্ধিতা।

— Reshma Akter

প্রিয় নাহিদ ভাই, ‘কী কথা তাহার সাথে’ গদ্য সংকলন’টি নিঃসন্দেহে আপনার জীবনের একটা বিশেষ প্রাপ্তি.. !

— মাসুম রেজা

আপনার ভ্রমণ বিষয়ক লেখাগুলো খুব চমৎকার! আশাকরি সামনে কখনো ভ্রমণের বই পাবো।

— মাহামুদ হাসান
error: Content is protected !!