কী কথা তাহার সাথে

প্রাক্-কথা

বেঁচে থাকতে হলে লক্ষ্য থাকতে হয়; সেই লক্ষ্য মাথায় রেখেই মানুষ সামনে এগিয়ে যায়। বুকের জমানো দুঃখ ভুলে পথ চলতে শেখে। প্রতিদিনই মানুষ নতুনভাবে জন্ম নেয়। নতুন স্বপ্ন, নতুন কাজ মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং বেঁচে থাকার উৎসাহ-প্রেরণা জোগায়।

আমার সংগ্রহে প্রায় হাজারখানেক বই। সেগুলোর কটা পড়েছি ঠিক মনে নেই। তবে কিছু বই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরুর পূর্বে বড়ো মামার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে পড়েছি। গত দুই বছর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বাছাইকৃত আরও তিন শতাধিক বই কিনেছি। জীবদ্দশায় যেগুলো অবশ্যই পড়ব বলে মনস্থির করেছি। দুঃখের বিষয় হলো, বইয়ের চেয়ে মানুষরূপী অমানুষ এখন আমাকে বেশি টানে। সময় পেলেই তাই চেনা সেই অমানুষদের কাছে ছুটে যাই। তাদের নির্লজ্জ স্বার্থপরের মতো আচরণে অহেতুক কষ্ট পাই। তবুও হাসিমুখে তাদের সঙ্গেই ঘুরে বেড়াই। কারণ আমি ক্ষমা করতে জানি। অন্যকে সুখী হতে দেখে আমি আনন্দ পাই।

নতুন পড়া বইয়ের বেশিরভাগ পড়েছি নীলফামারী থাকা অবস্থায়। অবশিষ্ট বইগুলো পড়তে আমার আনুমানিক আরও পাঁচ-ছয় বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করছি। যদি সুস্থভাবে বেঁচে থাকি, যদি সুন্দর পরিবেশ ও সুযোগ পাই তা হলে বই পড়ার পাশাপাশি ‘একটি বই অবশ্যই লিখতে চাই আমি; যা হাতে নিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম গর্ব করতে পারবে।’

আসলে স্বপ্ন দেখতে তো ক্ষতি নেই। যদি স্বপ্ন সত্যি হয় তা হলে জীবন নিশ্চয়ই অর্থবহ হয়ে উঠবে। আরও বেশি পূর্ণতা পাবে।

বছর দুয়েক আগে হাসপাতালের বিছানায় যখন একা একা শুয়েছিলাম তখন দেখতাম সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কেবল আমার জীবনটা সেই ছোট্ট কেবিনে আটকে আছে। আমি চলে গেলে কে কতদিন আমাকে মনে রাখত? এত দিনে আমার কবরের ওপর নিশ্চয়ই বড়ো বড়ো গাছ থাকত। তাই ঠিক করেছি, যতটুকু সময় বেঁচে আছি, একটু না-হয় নিজের মতো করেই বাঁচি, একটু না-হয় চেনা পথেই জীবনের বাকি পথটা হাঁটি।

একদিন আমার স্বপ্নের বীজ মাটি ভেদ করে পৃথিবীর আলো দেখবেই। এই আলো দেখার পথেই সৃষ্টি হয় ‘কী কথা তাহার সাথে’।

পছন্দের বেশকিছু গল্প, স্মৃতিকথা, মনঃকথা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বই। আশা করি পরবর্তী প্রজন্ম এবং পাঠক বইটি সাদরে গ্রহণ করবে।

বইয়ের নামকরণ করার ক্ষেত্রে ‘কী কথা তাহার সাথে’ রেখেছি কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় অনুপ্রাণিত হয়ে। ফলে নামকরণে পদ্যের ঘ্রাণ পাওয়া স্বাভাবিক। কেননা, জীবন প্রক্রিয়াটাও তো পদ্যেরই সমতুল। আমরা কখনো বাঁচি গল্পে—কখনো পদ্যে—কখনোবা দৃশ্যপটে! এই বইয়ের আখ্যানগুলোও সেরকমই…

মো. নাহিদ পারভেজ
ধানমণ্ডি, ঢাকা।
২৩ ডিসেম্বর ২০২৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *